"বাবা, তুমি ঘুগনি রাঁধতে বলে এমন জায়গায় চলে গেলে, আর কখনও ফিরে আসবে না" এই কথা বলে কাঁদতে কাঁদতে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত অরুণবাবুর বুকে আছড়ে পড়লো তার একমাত্র বিবাহিতা কন্যা মীরা গিরি৷
হেঁড়্যা-বাজকুল পাকারাস্তায় একটি মাছ বোঝাই লরীর সঙ্গে মোটরবাইক আরোহী বেগুনাবাড়ি গ্রামনিবাসী অরুণ কুমার গিরি'র এক্সিডেন্ট হয় উদাখালীর রাস্তার মোড়ে৷ প্রচন্ড গতিতে আসা মাছ বোঝাই অমানবিক লরীর চালক লরী নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পলাতক৷ ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে৷
অনেক মানুষ নিয়ে কাজ করেন, অরুণবাবু একজন ঠিকাদার (Contractor)৷ উনারা তিনভাই এবং তিনবোন৷ অরুণবাবু বড়৷ তরুণ, বরুণ, অঞ্জলী, দীপালী ও শেফালী৷ সবারই বিয়ে হয়েছে৷ অরুণবাবুরা একান্নবর্তী সংসারে সবাই এক হয়ে ভীষণ সুখে জীবনযাপন করতেন৷ প্রতিবেশী কমলিনীদেবীর কথায়; "উনার ভাইয়ের বৌয়েরা সকলে কাজ একসঙ্গে মিলেমিশে করতেন৷ রান্নাবান্না থেকে চাষবাস, সবেতেই৷ অরুণবাবু গ্রামের রাস্তায় চলাফেরা করার সময় সকলের সাথে ভালোমন্দ সমস্ত বিষয়ে কথা বলতেন৷ হৃদয়ে একটুমাত্র অহংকার ছিল না৷ বছর পঞ্চাশেক অরুণবাবু, পরোপকারী ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন৷"
অরুণবাবুর এক ছেলে ও এক মেয়ে৷ ছেলে গোপাল ব্যাংকে কাজ করেন৷ মেয়ে মীরাদেবীকে বিয়ে দিয়েছেন জরারনগর গ্রামের স্বপন গিরি মহোদয়ের একমাত্র পুত্র মিলিটারিম্যান শিবশংকরের সঙ্গে৷ গোপালের এক কন্যা আর মীরার ও একটি কন্যা৷ নাতনীদের খুবই স্নেহ করতেন অরুণবাবু৷
বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, গ্রামবাসী এমনকি তার অধীনে কাজের সকল মানুষকে সবাইকে ভালোবাসতেন৷ গতকাল রাত্রে মেজোভাই তরুণের ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে অরুণবাবু তাঁর মেয়ে মীরাদেবীর বাড়িতে রথযাত্রা উপলক্ষে আম কাঁঠাল ফল মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন৷ খাওয়ার পরে মেয়ের রান্নার প্রশংসা ও খানিকক্ষণ গল্প করে ঘুমিয়েছেন একটু দেরী করে৷ সকাল হতেই একা মোটরবাইক নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন৷ তারপরই পাকা রাস্তায় হঠাৎ পেছনে ধাক্কা মারে মাছ বোঝাই লরী৷ একজন সহৃদয় টোটো রিক্সাচালক এক্সিডেন্ট এর একটুপরেই স্পটে পৌঁছেই রাস্তায় গড়াগড়ি খাওয়া মুমূর্ষু ব্যাক্তিকে দেখে তাঁর মোবাইল পকেট থেকে বের করে মোবাইলে সেভ করা নম্বর থেকে কল করে সংবাদ দেন পরিচিত মানুষকে৷ সংবাদ ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় বিভিন্ন জায়গায়৷ কিছু সময়ের মধ্যেই আত্মীয় পরিজন সংবাদ পেয়ে যান৷ তমলুক হাসপাতালে পৌঁছোতেই ডাক্তারবাবু মৃত ঘোষণা করেন৷
অরুণবাবুর এক আত্মীয় শুভেন্দুকুমার যখন সব কথা বলেলেন, তখন তার চোখে ছিল অশ্রুবন্যা৷ ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে বেগুনাবাড়ী গ্রামে এখন শোকের ছায়া৷
©Samaresh SubodhParia®2020
চিত্র ঋণ: Subhendu Kumar
Date: 25/06/2020 / Heria

Comments
Post a Comment
Khejuri Live -এ আপনাকে স্বাগত জানাই। আপনার নজরে আসা খবর, ঘটনা জানতে পারেন আমাদের। আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের উৎসাহ দিতে পেজটি লাইক ও পোস্ট শেয়ার করবেন।
খবর জানাতে পারেন হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার 7872144541 এ, এছাড়াও করতে পারেন মেল- dasbhishmadev@gmail.com