Skip to main content

ছোট_গল্প একটি_দুঃখজনক_দুর্ঘটনা

সমরেশ সুবোধ পড়্যা

"বাবা, তুমি ঘুগনি রাঁধতে বলে এমন জায়গায় চলে গেলে, আর কখনও ফিরে আসবে না" এই কথা বলে কাঁদতে কাঁদতে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত অরুণবাবুর বুকে আছড়ে পড়লো তার একমাত্র বিবাহিতা কন্যা মীরা গিরি৷

হেঁড়্যা-বাজকুল পাকারাস্তায় একটি মাছ বোঝাই লরীর সঙ্গে মোটরবাইক আরোহী বেগুনাবাড়ি গ্রামনিবাসী অরুণ কুমার গিরি'র এক্সিডেন্ট হয় উদাখালীর রাস্তার মোড়ে৷ প্রচন্ড গতিতে আসা মাছ বোঝাই অমানবিক লরীর চালক লরী নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পলাতক৷ ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে৷

অনেক মানুষ নিয়ে কাজ করেন, অরুণবাবু একজন ঠিকাদার (Contractor)৷ উনারা তিনভাই এবং তিনবোন৷ অরুণবাবু বড়৷ তরুণ, বরুণ, অঞ্জলী, দীপালী ও শেফালী৷ সবারই বিয়ে হয়েছে৷ অরুণবাবুরা একান্নবর্তী সংসারে সবাই এক হয়ে ভীষণ সুখে জীবনযাপন করতেন৷ প্রতিবেশী কমলিনীদেবীর কথায়; "উনার ভাইয়ের বৌয়েরা সকলে কাজ একসঙ্গে মিলেমিশে করতেন৷ রান্নাবান্না থেকে চাষবাস, সবেতেই৷ অরুণবাবু গ্রামের রাস্তায় চলাফেরা করার সময় সকলের সাথে ভালোমন্দ সমস্ত বিষয়ে কথা বলতেন৷ হৃদয়ে একটুমাত্র অহংকার ছিল না৷ বছর পঞ্চাশেক অরুণবাবু, পরোপকারী ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন৷"

অরুণবাবুর এক ছেলে ও এক মেয়ে৷ ছেলে গোপাল ব্যাংকে কাজ করেন৷ মেয়ে মীরাদেবীকে বিয়ে দিয়েছেন জরারনগর গ্রামের স্বপন গিরি মহোদয়ের একমাত্র পুত্র মিলিটারিম্যান শিবশংকরের সঙ্গে৷ গোপালের এক কন্যা আর মীরার ও একটি কন্যা৷ নাতনীদের খুবই স্নেহ করতেন অরুণবাবু৷

বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, গ্রামবাসী এমনকি তার অধীনে কাজের সকল মানুষকে সবাইকে ভালোবাসতেন৷ গতকাল রাত্রে মেজোভাই তরুণের ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে অরুণবাবু তাঁর মেয়ে মীরাদেবীর বাড়িতে রথযাত্রা উপলক্ষে আম কাঁঠাল ফল মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন৷ খাওয়ার পরে মেয়ের রান্নার প্রশংসা ও খানিকক্ষণ গল্প করে ঘুমিয়েছেন একটু দেরী করে৷ সকাল হতেই একা মোটরবাইক নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন৷ তারপরই পাকা রাস্তায় হঠাৎ পেছনে ধাক্কা মারে মাছ বোঝাই লরী৷ একজন সহৃদয় টোটো রিক্সাচালক এক্সিডেন্ট এর একটুপরেই স্পটে পৌঁছেই রাস্তায় গড়াগড়ি খাওয়া মুমূর্ষু ব্যাক্তিকে দেখে তাঁর মোবাইল পকেট থেকে বের করে মোবাইলে সেভ করা নম্বর থেকে কল করে সংবাদ দেন পরিচিত মানুষকে৷ সংবাদ ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় বিভিন্ন জায়গায়৷ কিছু সময়ের মধ্যেই আত্মীয় পরিজন সংবাদ পেয়ে যান৷ তমলুক হাসপাতালে পৌঁছোতেই ডাক্তারবাবু মৃত ঘোষণা করেন৷

অরুণবাবুর এক আত্মীয় শুভেন্দুকুমার যখন সব কথা বলেলেন, তখন তার চোখে ছিল অশ্রুবন্যা৷ ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে বেগুনাবাড়ী গ্রামে এখন শোকের ছায়া৷

©Samaresh SubodhParia®2020
চিত্র ঋণ: Subhendu Kumar 
Date: 25/06/2020 / Heria

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...