Skip to main content

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার

রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়।

রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা

রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে।
এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?

বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টোটোর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রেজিস্ট্রেশনবিহীন। এই অরাজকতা বন্ধ করতেই সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।”

নতুন নীতির মূল দিকগুলো হল

1. রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক:
প্রতিটি টোটোকে সরকারি ওয়েবসাইট বা স্থানীয় পরিবহন অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।


2. QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট:
টোটো চালু রাখতে হলে নির্দিষ্ট নম্বরপ্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক হবে।


3. নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ:
টোটো চলবে নির্দিষ্ট রুটেই, অননুমোদিত পথে চলাচল করলে জরিমানা হবে।


4. বার্ষিক কর প্রবর্তন:
পরিবহন দপ্তর বার্ষিক ট্যাক্স চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যা টোটো রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হবে।


5. এক ব্যক্তি–এক টোটো নীতি:
একজন চালক কেবল একটি টোটো রেজিস্টার করতে পারবেন। ব্যবসায়িকভাবে একাধিক টোটো পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।


6. অবৈধ টোটো প্রত্যাহার:
রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও মানহীন টোটোগুলো ধাপে ধাপে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

অবৈধ টোটোর বিদায় ঘণ্টা

সরকারের লক্ষ্য—২০২৬ সালের মধ্যেই রাজ্যের সব টোটোকে বৈধ রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা। পরিবহন দপ্তর ইতিমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে, যাতে রাস্তায় থাকা অবৈধ টোটোগুলোকে চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া যায়। পথে নামতে চলেছেন পুলিশ, পরিবহন দফতর ও ইউনিয়ন।
যেসব টোটো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও যান জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে টোটো শিল্পকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। যারা জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাদের রক্ষা করাই উদ্দেশ্য। কিন্তু আইন মানতেই হবে—অবৈধ টোটো কোনোভাবেই চলবে না। টোটো রাজ্যের গ্রামীণ ও শহরতলির পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এর বিস্তার ভবিষ্যতে যানজট ও নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি করতে পারে। তাই সরকারের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করবে।

পশ্চিমবঙ্গে এখন থেকে টোটো চালাতে হলে রেজিস্ট্রেশন অপরিহার্য।
এই পদক্ষেপ রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন শৃঙ্খলা আনবে বলে আশা করছে প্রশাসন। তবে বাস্তবে এই নিয়ম কার্যকর করতে যথেষ্ট সময়, প্রচার ও সচেতনতা প্রয়োজন।

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...