Skip to main content

তালপাটি খালের পাড়ে খেজুরি-নন্দীগ্রামের পাশে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ও স্থানীয়দের সাহায্য

Khejuri Live: সর্বনাশা আমফান বাদ-বিচার করেনি। খেজুরি এবং নন্দীগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। রবিবার  কয়েকশো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পারস্পরিক দূরত্ব রেখে তালপাটি খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে। সেতুর উপরে ছোট্ট একটি মাইকে বাজছে 'আমরা করব জয়।' বহু বছর আগের শত্রুতা ভুলে দুই পারের মানুষ পরস্পরের কাঁধে মাথা রাখছেন। কেউ বলছেন আমার পানের বরোজ আর নেই। কেউ বলছেন, গাছ পড়ে পুকুরের সব মাছ শেষ। কারো কথায়, খড়ের চাল-মাটির বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কেউ বা চোখের জলে জানাচ্ছেন, বাড়ির টিনের ছাউনি কোথায় গিয়ে পড়েছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিধ্বংসী ঝড়ে সর্বনাশা হয়ে যাওয়া দুই পাড়ের মানুষ নিজেদের দুঃখ ভাগ করে নিচ্ছেন। 
আপাত অসম্ভব এই সহমর্মিতার ছবি দেখা গেল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের সৌজন্যে। খেজুরির এক এবং দুই নম্বর ব্লকে কয়েকশো পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী, ত্রিপল এবং নতুন কাপড় নিয়ে তাঁরা হাজির। প্রথম শিবির হয় কসাড়িয়া স্কুলের মাঠে। খেজুরি দু'নম্বর ব্লক এর বিডিও রম‍ল সিং বির্দি নিজে খাবার তুলে দেন পরিবারগুলির হাতে। সঙ্গে বিতরণ করেন মাস্ক। কলকাতার মনীষী চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি শ্যামল মিশ্র করোনা এবং আমফান পরবর্তী যুদ্ধ যুঝতে কোন পথে চলতে হবে সেই রূপরেখা জানান। 

খেজুরির জাহানাবাদ, কলাগাছিয়া, বাহারগঞ্জ, কামারদা, দেউলপোতা, ঘোলাবাড় গ্রামের মানুষদের পাশে দেখা গেল নন্দীগ্রামের রানিচকের বহু মানুষকে। খেজুরি একের বিডিও তীর্থঙ্কর রায় ত্রাণ তুলে দিলেন খেজুরি-নন্দীগ্রামের বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে। খেজুরি বন্দর সৎসঙ্গ আশ্রমের সভাপতি মেঘনাথ মন্ডল এবং সম্পাদক সর্বেশ্বর মন্ডলও ছিলেন। জাহানাবাদ তালপাটি খালের উপর সেতুতে খেজুরি থানার পুলিশ আধিকারিকরাও ত্রাণ বন্টনে অংশ নিলেন। কলকাতা থেকে আসা শিক্ষিকারা গ্রামের মহিলাদের হাতে তুলে দিলেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। 

আমফানে প্রচুর গাছ নষ্ট হয়েছে। এলাকার জনপ্রিয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তপন সামন্তর উপস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালিত হল। কয়েক ধাপে হওয়া অনুষ্ঠানে এলাকার পঞ্চায়েত প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্লাবের সংগঠক, শিক্ষক এবং ছাত্ররাও হাজির। দেউলপোতা গ্রাম্যগোষ্ঠীর তনুজ বেরার প্রতিক্রিয়া, "তালপাটি খালের দুই প্রান্তে খুঁজে দেখলে আপনি এখনো গুলির খোল খুঁজে পাবেন। একটা সময় ছিল যখন এই খালের দুই পাড়ের মানুষের ঘুম হত না। দিনরাত শুধু গুলির শব্দ। আর আজকের এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি মিলিয়ে দিল দুপারের মানুষকে।" শিক্ষক রত্নদ্বীপ সামন্ত, সোমনাথ সামন্ত, এলাকার শুভঙ্কর মন্ডল, সুখেন্দু মণ্ডল, রাজু মণ্ডলরা জানালেন, "আমরা চাইলে শুধুমাত্র খেজুরির মানুষের জন্য এই কর্মসূচি করতে পারতাম। কিন্তু কয়েক হাত প্রস্থের একটি খাল কেন দুটি এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখবে। আমরা জাহানাবাদের এমন একটা জায়গা বেছে নিলাম যেখানে খুব সামান্য একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খেজুরি-নন্দীগ্রামের প্রচুর মানুষের মধ্যে সমন্বয় করা যাবে।" মেঘনাদবাবু বললেন, "তালপাটি খালে একসময় নৌকা চলত। যখন সড়কপথে এত উন্নতি হয়নি তখন জল পথেই আমরা যাতায়াত করতাম। বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যমে ছিল এই খাল। যা এখন মজে গিয়ে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দুই পাড়ের হাজার হাজার  কৃষক। একটু জল জমলেই মাঠে ফসল পচে যায়।" বিডিও তীর্থংকরবাবু সমস্যার কথা শুনলেন। তিনি জানালেন, মজে যাওয়া খাল পরিষ্কার করতে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক কলেজের প্রাক্তনীদের তরফে শ্যামলবাবু একদিকে যেমন অভিভূত তেমনি মানুষের দুর্দশায় কিছুটা মর্মাহত। তিনি বললেন, "আমরা সাগরদ্বীপে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু খেজুরির অবস্থা মারাত্মক। আবার আসব এখানে।"

Comments