Skip to main content

রাজা রামমোহন রায়ের খেজুরী আগমন দিবস ও বিশ্ব হেরিটেজ সপ্তাহ উদযাপন

Khejuri Live: খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি'র উদ্যোগে শনিবার খেজুরীতে ভারতপথিক রাজা রামমোহন রায়ের খেজুরী আগমনের ১৯৩ বার্ষিকী ও খেজুরীর প্রাচীনতম ডাকঘর প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর,বিশ্ব হেরিটেজ সপ্তাহ উদযাপনের সূচনায় এক বৈকালিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খেজুরীতে  আয়োজক সংস্থার স্থাপিত রাজা রামমোহন রায়ের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি'র সহ: সভাপতি শান্তিরাম দাস। প্রথম পর্বে সার্ধ দ্বি-শতবর্ষে ' রাজা রামমোহন রায়ের জীবন ও কর্ম ' নিয়ে আলোচনায় অংশগ্ৰহণ করেন ড. রামচন্দ্র মন্ডল,পার্থসারথি দাশ,স্বপন মন্ডল, সুদর্শন সেন প্রমুখ। দ্বিতীয় পর্বে এদিন বিশ্ব হেরিটেজ সপ্তাহ (১৯-২৫ নভেম্বর ) উদযাপন উপলক্ষে খেজুরী তথা ভারতের প্রাচীনতম ডাকঘরটির প্রাঙ্গণ থেকে রাজা রামমোহন রায় ও দ্ধারকানাথ ঠাকুরের  মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত এক পদযাত্রারও আয়োজন করা হয় । পদযাত্রায় পা মেলান উপস্থিত সকলেই। উপস্থিত বিশিষ্ট জনদের মধ্যে  কিরীটিভূষণ মন্ডল, সুভাষচন্দ্র মন্ডল, দূর্গা দাস, অলোকরঞ্জন দাস,বসন্ত মন্ডল, জয়দেব মাইতি,সেক আসমত,হাবিবা খাতুন, মধুসূদন জানা, মধুমিতা মন্ডল , সরোজ আচার্য, অরিন্দম মাইতি, অনিমেষ ঘোষ, শুভেন্দু কামিলা,উৎপল সামন্ত , জগন্নাথ দাস , সেখ ফজলুল রহমান , দেবাশীষ মিশ্র প্রমুখদের নাম উল্লেখ করা যায়। এদিন ভারতের প্রাচীনতম ডাকঘর , খেজুরী ডাকঘরের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে খেজুরী ডাকঘরের একটি রেপ্লিকা তুলে দেওয়া হয় আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে বাজকুল রেঞ্জের রেজ্ঞার শমীক জানার হাতে। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সভাপতি শান্তিরাম দাস ও সহ: সম্পাদক সুমন নারায়ন বাকরা।
   প্রসঙ্গত, ভারতে নবজাগরণের অগ্ৰদূত রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩ )  তাঁর বিলেত যাত্রাকালে কলকাতা থেকে সকালে যাত্রা শুরু করে খেজুরী বন্দরে আসেন ' ফোবর্স ' নামে একটি স্টিমারে চেপে ১৮৩০ খ্রীষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায়। রাত্রে খেজুরী ডাকঘরের অতিথি নিবাসে  তিনি রাত্রি যাপন করেন। রাতেই খেজুরী থেকে কলকাতার সংবাদপত্রে দু'টি চিঠি লেখেন তিনি ও পরদিন ২০ নভেম্বর, ১৮৩০ খেজুরী বন্দর থেকেই ' আলবিয়ন ' নামক পালতোলা জাহাজে ইংলন্ডের লিভারপুল বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা  করেন। রাজা রামমোহনের খেজুরী আগমনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি'র পক্ষ থেকে ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর রাজা রামমোহন ও পরবর্তীকালে বিলেত যাত্রী অপর কৃতি বাঙালি দ্বারকানাথ ঠাকুরের দু'টি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই এই দিনটি স্মরণ করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে।

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...