Skip to main content

মর্মান্তিক, জুখিয়ায় দুটি কুঁড়ি ঝরে গেল

#ছোট_গল্পের আকারে মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরলেন সমরেশ সুবোধ পড়িয়া 

Khejuri Live: অঙ্কিতা ও মালবিকা জুখিয়া কুঙরনারায়ণ বাণী মন্দির বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে৷ দুইজন বোন পড়ালেখায় বেশ ভালো৷ জুখিয়া অঞ্চলের স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের মধ্যে বামুনিয়া গ্রাম কৃষিকার্যে অগ্রণী এবং অন্যান্য কৃষকদের থেকে নানান প্রকারের কৃষিজ ফসল উৎপাদনে অনেক এগিয়ে৷ বিভিন্ন রকমের ফসল উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করেন দুই ভাই অভিজিৎ সাহু ও তার ভাই মানিক সাহু৷ অঙ্কিতা ও মালবিকা দুই তুতোবোন অভিজিৎ ও মানিক বাবুর মেয়ে৷ এখন করোনা লকডাউনের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ আছে৷ তাই সবাই বাড়িতে থেকে পড়াশোনা, খেলাধুলা, গান, আবৃত্তি, আঁকা প্রভৃতি নানান এক্টিভিটি করে থাকে৷ দুই তুতোবোনের ভীষণ মিল, একসঙ্গে থাকা, পড়া সবেতেই৷

আজ দুপুরে দুইতুতোবোন খেলা করছিল পুকুরের ধারে৷ বাড়ি থেকে পুকুরের দূরত্ব খুব একটা বেশী নয়৷ তাদের মায়েরা গৃহস্থ কর্মে ব্যস্ত ছিলেন৷ ছোটবোন মালবিকা পুতুলের বিয়ে দেওয়া খেলতে গিয়ে পুকুর থেকে জল আনতে যায়৷ বর্ষার জলে শেওলা জমে যাওয়ায়, পুকুরের ঘাটে পুতুলের বিয়ের জল আনতে গিয়ে পা হড়কে পড়ে যায় জলে৷ সাঁতার না জানা মালবিকা হাবুডুবু খেতে থাকে৷ এটি দেখে সাঁতারে পটু ভীষণ সাহসিনী অঙ্কিতা তার তুতোবোনকে পুকুর থেকে তুলতে ঘাটে নেমে যায়৷ অসহায়া মালবিকা দিদিকে জাপটে ধরে৷ জলে নামলে এমনিতেই সবার শক্তি কমে যায়, তার উপর এগারো বছরে সদ্য কিশোরী মেয়ে অঙ্কিতা তার বোন মালবিকাকে টানতে গিয়ে, দুইজনের কিছুক্ষণ জলের মধ্যে টানাটানিতে শক্তিক্ষয় হতে থাকে৷ এইভাবে দুইজনে বাঁচার ও বাঁচানোর তীব্র আপ্রাণ প্রচেষ্টায় সাহসিনী অঙ্কিতা বোনকে বাঁচাতে বাঁচাতে পুকুরের গভীরে তলিয়ে যায়৷

আজ জুখিয়া শ্মশানে বহু মানুষের উপস্থিতিতে দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়৷ এলাকায় সবাই শোকমগ্ন৷ পরিবারের সবাইকে সমবেদনা জানানোর পরে;"সাহসিনী অঙ্কিতা আজ নেই, তার আন্তরিক সাহসী ভূমিকাকে স্যালুট জানাই" - এই কথা বললেন; এলাকার বিশিষ্ট সজ্জন এবং জুখিয়া কুঙরনারায়ণ বাণীমন্দির বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মাননীয় সুকুমার।
©Samaresh Subodh Paria®2020
গল্পটি ইং ০৩/০৭/২০২০ তারিখের সত্যঘটনা অবলম্বনে। নাম কাল্পনিক ৷

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...