Skip to main content

লোকধারা ও বর্ষা মঙ্গল উৎসব আয়োজনে খেজুরির নবধারা ট্রাস্ট ও ভারত সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চল কেন্দ্র

খেজুরির নবধারা ট্রাস্ট ও ভারত সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে অনলাইন লোকধারা ও বর্ষা মঙ্গল উৎসব।


 করোনার মতো বিশ্বমহামারীর প্রভাবে দীর্ঘ লকডাউনের কারণে শিল্পীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তাদের সবকিছুর আর্থিক উপার্জনের দিকগুলো দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে বন্ধ । 

 শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে অনলাইনে লোকশিল্পী ,শাস্ত্রীয়, সৃজনশীল ও সমকালীন নৃত্য শিল্পীদের সহায়তা করতে নবধারা আয়োজন করেছিল লোকধারা ও বর্ষা উৎসব। এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করলো পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ,ভারত সরকার।
এই অনুষ্ঠানে শুভারম্ভে সকল শিল্পীদের শুভেচ্ছা জানান পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ডিরেক্টর গৌরী বসু। সরকারি নিয়ম এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পীরা তাদের বাড়িতে থেকে ভিডিও করে পাঠায়। এই অনুষ্ঠানে  বাংলার লোকশিল্প নিয়ে বক্তব্য দেন লোক গবেষক , রবীন্দ্র ভারতী ইউনিভার্সিটির  অধ্যাপক ডঃ তরুণ প্রধান ।বাংলার বিভিন্ন লোকশিল্প যেমন রায়বেঁশে, রনপা, পাইক ,ঢালী ,কাঠি, পাতা নাচ, সারি গান, পূর্ব মেদিনীপুরের পট গান, বেনির পুতুল, কীর্তন গান, তাসা বাদ্যযন্ত্র এছাড়া কিছু লুপ্তপ্রায় লোকশিল্প নবধারা নতুন ভাবে তুলে ধরে।পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে অবস্থিত শবর (কাকমারা) সম্প্রদায়ের গান ও নাচ হারিয়ে যাওয়া লোকসংস্কৃতি কে নতুন ভাবে তুলে ধরে নবধারা। 
এছাড়া বর্ষা মঙ্গল উৎসবে অংশগ্রহণ করেন নৃত্য জগতের গুরুরা তাদের উপস্থিতিতে তাদের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন নৃত্যশৈলীর প্রদর্শন করেন। এই অনুষ্ঠানে বাস্তব পরিস্থিতি, বিভিন্ন নৃত্যশৈলী বিষয়ক আলোচনা এবং গুরু শিষ্য পরম্পরা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট  নৃত্যশিল্পী ও গুরুরা। ভরতনাট্যম্  অনিতা মল্লিক,কলামন্ডলম ভেঙ্কিট, মলি রায়,ওড়িশি রীনা জানা, কত্থক নৃত্য অসীমবন্ধু ভট্টাচার্য্য, গৌড়ীয় ডক্টর মহুয়া মুখার্জি, মনিপুরী বিম্বাবতী দেবী।অনুষ্ঠানে ভারতনাট্যম নৃত্য প্রদর্শন করেন ডক্টর অর্কদেব ভট্টাচার্য্য, সৃজনশীল নৃত্য প্রদর্শন করেন জয়দেব গুহ, মনীষ সামন্ত, সমকালীন নৃত্য পরিবেশন করেন সমীর পন্ডার ছাত্রছাত্রীরা মধুরিমা পড়্যা, প্রেরণা মাইতি, অম্বিকেশ পন্ডা ও প্রিয়া পাত্র। এছাড়া অমৃত খাটুয়া, গোপাল মাইতি, দীপান মৈত্র ভারতনাট্যম নৃত্য প্রদর্শন করেন। কথাকলি নৃত্য যাদব দাস, কত্থক নৃত্য সৃজিতা বৈদ্য, ওড়িশি নৃত্য সংঘমিত্রা জানা, মনিপুরী নৃত্য বিপ্লব ঘোষ ও গৌড়ীয় নৃত্য প্রদর্শন করেন অয়ন মুখার্জি।
 
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়  পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের  নিজস্ব ওয়েবসাইটে।

নবধারা ট্রাস্ট আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি শিল্পীদের পাশে থাকতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নবধারা সরাসরি শিল্পীদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।  নবধারার কর্ণধার সমীর পন্ডা জানান এই কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে শিল্পীদের সকল অনুষ্ঠান, ক্লাস সবকিছুই বন্ধ সেখানে শিল্পীদের মনোবল বৃদ্ধি ও আর্থিকভাবে কিছুটা সাহায্য করার জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন তা পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ভারত সরকার আর্থিকভাবে শিল্পীদের সহায়তা করেছে। আগামী দিনগুলোতে আমরা সমস্ত প্রতিকূলতাকে দূরে সরিয়ে আবার নতুন ভোরের আলো দেখতে পাবো।"

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...