Skip to main content

ছন্দে ফিরছে লাল দুর্গ, লাল ঝান্ডা-স্লোগানের সাথে লড়াইতে সামিল কমরেডরা


Khejuri Live: দীর্ঘ ১১বছর! পুণরায় চালু হল সিপিআইএম পার্টি অফিস। লাল দুর্গ নামে পরিচিত খেজুরির কামারদা। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে সাধারণ মানুষ হাতে নেননি লাল ঝান্ডা, বলেননি "ইনকিলাব জিন্দাবাদ"। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে বামেদের পার্টি অফিস ভাঙচুর, দখল করেছিল শাসকদল তৃণমূল।  ধীরে ধীরে সংগঠন চাঙ্গা করতে গত লোকসভা ভোটের আগে থেকেই পথে নেমেছে বাম নেতৃত্ব। বাম নেতা-কর্মীরা পুরোদমে মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইতে মাঠে নেমেছেন। এক এক করে খেজুরির অধিকাংশ পার্টি অফিস চালু হয়ে গিয়েছিল আগে।

কিন্তু লাল দুর্গ কামারদার পার্টি অফিস চালু ছিল না। তৃণমূলের দখল করা পার্টি অফিস পুণরায় এলাকাবাসী, শ্রমিক,কৃষক ক্ষেতমজুর সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে সিপিআইএমের শাখা অফিসের বোর্ড সহ লাল ঝান্ডা লাগিয়ে অফিস চালু হয় শনিবার। সিপিআইএম রাজ্য  কমিটির সদস্য হিমাংশু দাস, জেলা কমিটির সদস্য যাদবেন্দ্র সাহু, এরিয়া কমিটির সম্পাদক গোকুল ঘোড়াই, গৌরী জানা, অমিয় আচার্য, শেখ মোস্তাক, সমীর কলা, জাহারাজ আলি, শেখ শাকিল ,রত্নেশ্বর দোলোই, শীর্ষেন্দু দাস, জগন্নাথ দোলই,রাম কুমার মাইতি হারাধন জানা প্রমূখ নেতৃত্বগন মিছিল ও পথসভার পর পার্টি অফিস চালু করেন। শতাধিক মানুষের মিছিল কামারদা গ্রামের ভিতরে পথ পরিক্রমা করে। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত গ্রামের  মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে স্বাগত জানান কমরেডদের। আনন্দে আপ্লুত হয়ে বহু মানুষ এসে নেতৃত্বদের জড়িয়ে ধরেন, প্রণাম করে বিগত দিনের অত্যাচারের কথা শোনান।

কামারদার পাশাপাশি তিন মাইল দুরে বাঁশগোড়া বাজারে তৃণমূলের দখলে থাকা পার্টি অফিসটি  হিমাংশু দাস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। প্রবীণ বাম নেতা প্রবোধ মাইতি, কার্তিক প্রধান, সুবল সামন্ত সহ বাঁশগোড়া বাজার এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করলেন।আজ থেকে অফিসগুলি চালু  হলো।হিমাংশু বাবুর কথায়, খেজুরির মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন,তা লাল ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে মানুষ আবার প্রমাণ করলেন।

খেজুরির চারিদিকে আবার লাল ঝান্ডা ভরে উঠেছে। বিজেপি, তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ, ঘৃণা প্রকাশ করে লাল ঝান্ডা হাতে নিয়ে সাহসের সাথে মাঠে ময়দানে উপস্থিত হচ্ছেন খেজুরি।  

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...