Skip to main content

বরোজ খেয়া ও মাঝি সুভাষ পড়্যা- লিখলেন সমরেশ সুবোধ পড়্যা

বরোজ খেয়া ও মাঝি  সুভাষ পড়্যা- লিখলেন সমরেশ সুবোধ পড়্যা


Khejuri Live: দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে নিরন্তর খেয়া পারাপার করে - দৈনিক তিন শতাধিক মানুষজনের সেবাদান করে চলেছেন; সকলের প্রিয় "বরোজ গাঙ" এর মাঝি সুভাষচন্দ্র পড়্যা মহোদয়৷ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানলাম; সকলেই একবাক্যে বললেন; উনি একটু বকাঝকা করেন বটে কিন্তু জলে- ঝড়ে উনিই সবার পাশে থাকেন, অনবরত সেবা করে চলেছেন, এলাকার হাজার হাজার মানুষের৷ বরোজ, কায়েমগেড়িয়া, শিমূলবাড়ি, পাঁউশী, বিজয়নগর, অনলবেড়িয়া, ভসলাগেড়িয়া, কলমিচ্ছাবাড়, ইচ্ছাবাড়ি, কালীরবাজার, অর্জুননগর প্রভৃতি বিশাল জনবসতিপূর্ণ গ্রামীণ এলাকার বিপুল মানুষের খেয়া পারাপারে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জ্বর-জাড়িতেও উনি সেবাদান করে চলেছেন, রদ্দ করেন নি কোনও দিন৷

এলাকার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি - বরোজ খালের উপর একটি ব্রীজ হোক৷ স্থানীয় সাংসদ শিশির কুমার অধিকারী মহোদয়ের পরিকল্পনায় হেঁড়িয়া হতে বরোজ পর্যন্ত সম্প্রতি পাকা রাস্তা হয়েছে৷ দীর্ঘদিন পরে ওই এলাকার মানুষের স্বপ্ন বাস্তব হতে দেখে ব্রীজ এর স্বপ্নের কথা পুনরায় বলা শুরু করেছেন৷


হেঁড়িয়া থেকে কোলকাতার দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিমি... যাতায়াতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা মাত্র৷ কিন্তু কায়েমগেড়িয়া থেকে হেঁড়িয়ার দূরত্ব যেখানে ১২ কিমি হয়েও যাতায়াতে সময় লাগে আড়াই ঘন্টা থেকে তিন ঘন্টা.... বর্তমান আধুনিক যুগে যেটা ভাবাই যায় না !

কৃষক, মৎস্যজীবি, ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, পোষ্ট মাস্টার, ব্যবসায়ী এর মতো বহু পেশার মানুষদেরও আড়াই তিন ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয় গন্তব্য স্থলে পৌঁছুতে - মাণ্র এইটুকু ১২ কিমি রাস্তা যাতায়াতে৷ 

সুভাষবাবু আন্তরিক ভাবে আশা করেন তাঁর খেয়ার পরিবর্তে ব্রীজ হোক, অগাধ মানুষের উপকার হবে তাতে৷ যদিও ক্ষতি হবে এক মাত্র তাঁরই, তবুও তিনি মনে প্রাণে আশা প্রার্থী  - ব্রীজ হোক৷

ব্রীজ হলে আপনার রোজীরুটি কি হবে?  প্রশ্ন করায় তাঁর নির্লিপ্ত উত্তর - আমি ব্রীজের সামনে গামছা পেতে ভিক্ষা করে দিন গুজরান করবো, তবুও জনসাধারণের উপকারার্থে ব্রীজ হোক এই "বরোজ গাঙ"এর উপর!

ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই - সুভাষ বাবুর এমন মানসিকতার জন্য!

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...