"মা, আমি চুরি করিনি" — পাঁশকুড়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা
পাঁশকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর: একটি মর্মান্তিক ঘটনায় কেঁপে উঠল পাঁশকুড়া। সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের আত্মহত্যা এবং তার আগে রেখে যাওয়া একটি সুইসাইড নোটে লেখা মাত্র কয়েকটি শব্দ— “মা, আমি চুরি করিনি”— আজ নাড়া দিয়েছে গোটা এলাকা এবং রাজ্যবাসীর হৃদয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁশকুড়ার একটি স্কুলের ছাত্রটি সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনায় ভুলভাবে অভিযুক্ত হয়। যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছিল না, তবু স্কুল ও স্থানীয় মহলের কিছু মানুষ তাকে চোর বলে অপমান করতে থাকে। শোনা যাচ্ছে, এই মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে ওই ছাত্র।
বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে সে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। বাড়ির ভিতর পাওয়া যায় একটি ছোট চিরকুট, যাতে লেখা ছিল:
“মা, আমি চুরি করিনি। সবাই মিথ্যে বলছে। তুমি বিশ্বাস কোরো।”
মানবাধিকার কর্মী ও মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ঘটনা কেবল একটি শিশুর আত্মহননের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমাজে সহানুভূতির অভাব, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অপরিণামদর্শী আচরণের বিপজ্জনক পরিণতি।
চিপ্স চুরির অপবাদ!
পাড়ার দোকান থেকে চিপ্সের প্যাকেট চুরির অভিযোগ উঠেছিল বছর তেরোর এক কিশোরের বিরুদ্ধে। তাকে কান ধরে ওঠবোস করতেও বাধ্য করেছিলেন দোকানদার। মা-ও বকাঝকা করেছিলেন সকলের সামনে।
ওই চুরির ‘অপবাদ’ সহ্য করতে না পেরে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হল সপ্তম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্র। পরিবারের দাবি, আত্মহত্যার আগে নিজের খাতায় সে লিখেছে, ‘‘মা আমি চুরি করিনি।’’
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার গোঁসাইবেড় এলাকার ঘটনা। মৃত ছাত্রের নাম কৃষ্ণেন্দু দাস। স্থানীয় বাকুলদা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত সে। বৃহস্পতিবার কিশোরের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। গোটা ঘটনায় পুলিশে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পাঁশকুড়া থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত রবিবার শুভঙ্কর দীক্ষিত নামে এক ব্যক্তির মিষ্টির দোকান থেকে তিনটে চিপ্সের প্যাকেট চুরির অভিযোগ উঠেছিল কৃষ্ণেন্দুর বিরুদ্ধে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, চিপ্সের প্যাকেটগুলি হাওয়ায় উড়ে গিয়েছিল। সেই সময় রাস্তা দিয়ে সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল কৃষ্ণেন্দু। সে বুঝতে পারেনি প্যাকেটগুলি কোথা এসেছে। রাস্তায় পড়ে রয়েছে ভেবে সে কুড়িয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছিল। তা দেখতে পেয়েই কিশোরকে ধরেন শুভঙ্কর। চিপ্সের প্যাকেট চুরির জন্য তিনি কৃষ্ণেন্দুকে তিরস্কারও করেন। তাকে বাধ্য করেন কান ধরে ওঠবোস করতে। এর পরেই ওই কিশোর দোকানদারকে চিপ্সের প্যাকেটের জন্য ২০ টাকা দেন। দোকানদার ফেরতও দেন পাঁচ টাকা। ওই ঘটনার কথা লোকমুখে জানতে পেরে কৃষ্ণেন্দুর মা আবার ছেলেকে শুভঙ্করের দোকানে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ছেলেকে বকাবকিও করেন তার মা। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পরেই বাড়ি ফিরে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে কৃষ্ণেন্দু।
Comments
Post a Comment
Khejuri Live -এ আপনাকে স্বাগত জানাই। আপনার নজরে আসা খবর, ঘটনা জানতে পারেন আমাদের। আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের উৎসাহ দিতে পেজটি লাইক ও পোস্ট শেয়ার করবেন।
খবর জানাতে পারেন হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার 7872144541 এ, এছাড়াও করতে পারেন মেল- dasbhishmadev@gmail.com