Skip to main content

জানুন মহীয়সী সেনা নায়িকা কর্নেল সোফিয়া ক্যুরেসি সম্পর্কে

Khejuri Live : ভারতের সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি: অপারেশন সিন্দুরের নেতৃত্বে এক অনন্যা সেনানায়িকা 


সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে কর্নেল সোফিয়া কুরেশির মাধ্যমে।  তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে 'অপারেশন সিন্দুর' এর প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছেন। 

 পেশাগত জীবন ও কৃতিত্ব

গুজরাটের ভদোদরা শহরে জন্মগ্রহণকারী কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ১৯৯৯ সালে অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি, চেন্নাই থেকে কমিশন প্রাপ্ত হন।  তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে কর্মরত।  ২০১৬ সালে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন, যখন তিনি 'এক্সারসাইজ ফোর্স ১৮' নামক বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় ভারতীয় সেনা দলের নেতৃত্ব দেন।  এই মহড়ায় ১৮টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল এবং তিনি ছিলেন একমাত্র নারী কমান্ডার।  

তিনি ২০০৬ সালে কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  


অপারেশন সিন্দুরে ভূমিকা

২০২৫ সালের মে মাসে, পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত 'অপারেশন সিন্দুর' চালায়, যার মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।  এই অভিযানের প্রেস ব্রিফিংয়ে কর্নেল কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিং যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন, যা ভারতের সেনাবাহিনীতে নারীদের অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।  

ব্যক্তিগত জীবন

কর্নেল কুরেশি একটি সামরিক পরিবার থেকে আগত; তার দাদা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।  তিনি মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রির একজন অফিসারের সাথে বিবাহিত এবং তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।  তিনি বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।  
অনুপ্রেরণার প্রতীক

কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অগ্রগতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।  তার নেতৃত্ব, সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...