Skip to main content

বন্যা পরিস্থিতির জন্য দায়ী জনসাধারণ - বিশেষ প্রতিবেদন


বন্যা পরিস্থিতির জন্য দায়ী জনসাধারণ!

Khejuri Live: জল নিকাশি ঠিক রাখা যেমন সরকারের দায়িত্ব তেমনি জনসাধারণেরও নিজেদের সচেতন থাকার কর্তব্যও রয়েছে৷ দরজা খুলে রেখে ঘুমাবেন আর চুরি হলে বলবেন পুলিশ প্রশাসন আর সরকারের দোষ৷ মালাই খাবেন আর খেতে খেতে মাছি বসলে বলবেন; রাঁধুনির দোষ! বাহ্ বাহ্ বাহ্! এগুলো দেখতে দেখতে আর শুনতে শুনতে সহ্য হচ্ছে না৷ 

এই যে ২০২১-এ, অতি বৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গে দু-দুবার বন্যা হয় গেল৷ আপনারা কি করলেন? নিজের আনাচে কানাচে ড্রেন পরিষ্কার করেছেন কখনো? বাজার থেকে আনা বিভিন্ন প্যাকেট, প্লাস্টিকের থলি আর বোতলগুলোতো রাস্তায় এদিক ওদিক ফেললেন! অন্যরা সাফ করবে! তাই না! আপনার দায় নেই নাহ্? আপনি শুধু নেতা নেত্রীদের গাল পাড়বেন! আপনার কোনও দায়িত্ব নেই?

প্লাস্টিক, কাঁচের টুকরো, আবর্জনা, জঞ্জাল ফেলে আর আগাছায় খাল, ড্রেন, নালা, নয়াঞ্জুলি, জল নিকাশি ভর্তি করলেন বা অন্যেরা করলো - আপনি কি তার প্রতিবাদ করেছেন কখনো? অবৈধভাবে নদী ও খালের চরে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, দখলদারি, ইঁটভাটা দিনের পরদিন গজিয়ে যাচ্ছে আর রাস্তার ধারে বিল্ডিং মেটিরিয়ালস্ ফেলে রেখে আমজনতার দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে তার কি কোনওদিন প্রতিবাদ করেছেন? বাড়িতে বসে টিভিতে দেখে - বউর সামনে শুধু নেতাদের গালমন্দ ছাড়া আর কি করছেন বলুন তো?

অনেক হয়েছে নেতাদের গালমন্দ ৷ আমরা শুধু প্রতিবেশীর করা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পাই৷ পাড়া প্রতিবেশীর অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কঠিন কাজ৷ তাদের বিরুদ্ধে চিঠি লেখাও কঠিন কাজ!  তাই নেতাদের গালমন্দ করা ভীষণ সহজ কাজ ভেবে দিনরাত তাদের দোষগুলো তুলে ধরি৷ দিনরাত গালমন্দ করে যাই৷ নিজের টা একদম দেখি না৷

এতদিন নেতাদের দোষ ধরেছি৷ আর না! এবার আমাদের নিজেদের দোষ ধরবো৷ আমরা শুধরালেই সমাজ শুধরাবে! আমাদের ভুল, অন্যায় আর দোষগুলোর জন্য নেতাদের আর দোষ দেবো না৷

প্রায় ২০টি গ্রামের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে #খেজুরীর হেঁড়িয়া শ-মিল থেকে মোহাটির বেচু ঘোড়ই পুল পর্যন্ত #পালাবনী খালের আগাছা, জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজ চলছে৷ ধ্বজিভাঙা থেকে মিত্রচক, হেঁড়িয়া, জরারনগর এবং মোহাটি পর্যন্ত এই খালের পাশে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বেআইনি দখলদারি অনেকাংশে বেড়েছে৷ একটার পর একটা দোকান বসেছে, ঘর হয়েছে, বেদখল হচ্ছে সরকারী সম্পদ! আচ্ছা বলুনতো সরকারী রাস্তা, সরকারী নদী, খাল, ড্রেন, নালা, নয়াঞ্জুলি, জলনিকাশিগুলো কী আপনার নয়?

তাহলে বেদখল দেখে প্রতিবাদ করছেন না কেন? শুধু নেতা-নেত্রী, প্রশাসন, সরকারকে দোষারোপ করেন কেন? মার খাওয়ার ভয়! আরে বাবা! ঘর পড়ে গেল, সম্পদ ডুবে গেল,  আপনজনের প্রাণ গেল! আর কবে জ্ঞান উদয় হবে?

কিছু অবুঝ মানুষ নদীতে ও খালে সরাসরি ছাই ফেলে ভরাট করে দিচ্ছে, অসাধু ইঁট ব্যবসায়ীরা মাটি চুরি করছে - এসমস্ত হচ্ছে জনসাধারণের সচেতনতার অভাবেই, তাইতো এই বন্যা পরিস্থিতি৷ আর তাদেরই জন্য লাখো লাখো মানুষ জলে ডুবছে৷ জান-মাল পরিবার নিয়ে বিপদে দিন কাটাচ্ছে৷ প্রাণহানি হচ্চে! কবে সচেতন হবেন আপনি!

অনেক প্রতিবেদন লেখা হয়েছে৷ প্রতিবাদ করা হয়েছে৷ অনেক আবেদন করা হয়েছে৷ আজ পালাবনী খালের জঞ্জাল পরিষ্কার দেখে ভালো লাগছে৷ জনসাধারণ সচেতন হলে কোটি কোটি টাকার অপচয়, ধ্বংস হবে না৷

অবৈধ দখলের প্রতিবাদ করুন৷ নদী, খাল, রাস্তা - আমার আপনার সবার৷ অবৈধ দখলদারির প্রতিবাদ করুন!

কলমে সমরেশ সুবোধ পড়্যা

Comments

Popular posts from this blog

বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না, পুকুর থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ

Khejuri Live নিজস্ব সংবাদদাতা, খেজুরী: বাড়ি থেকে স্নান করতে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের যুবক শিবশঙ্কর মাইতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দীর্ঘ প্রায় একদিনের তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পুকুর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরী এলাকার অজয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন মাইতির ছেলে শিবশঙ্কর মাইতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত অজয়া অন্নদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের পুকুরঘাটে শিবশঙ্করের জুতো, গামছা ও সাবান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই আশঙ্কা করা হয়, তিনি পুকুরের জলে তলিয়ে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা দুপুর থেকেই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করেন। পাশাপাশি মেশিন বসিয়ে পুকুরের জল কমানোর কাজও শুরু হয়। কিন্তু রাত ৭টা পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে খেজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এনডিআরএফের ডুবুরি...

রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া চলবে না টোটো, কড়াকড়ি নিয়ম রাজ্য সরকারের।

Khejuri Live: পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর চলবে না টোটো — নতুন নীতিতে কড়াকড়ি আনল রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার টোটোচালকদের জন্য আনছে কঠোর নিয়ম। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো টোটো আর চলতে পারবে না। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনকে আনতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট ডাটাবেসের আওতায়। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ঘোষণা রাজ্য পরিবহন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক টোটোর জন্য একটি ইউনিক নম্বর জারি করা হবে। এই নম্বর ছাড়াই আর কোনো টোটো রাস্তায় নামলে সেটিকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে QR কোডযুক্ত নম্বরপ্লেটও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক বছরে টোটোর সংখ্যা রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। অনেক জায়গায় রুট নির্ধারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল করছে, যা ট্রাফিক জট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, “রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টো...

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।

মৎস্যজীবী পরিবারের যাদব থেকে গবেষক ড. যাদব মাঝি হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আপনাকেও নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে।  Khejuri Live: আর্থিক অভাবে বই ফেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ছেলেটি আজ গবেষক।  সুদূর কানাডা, আমেরিকায় পড়াশোনা, গবেষনা করে এখন ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটির অন্যতম ধানবাদ আইআইটির প্রফেসর পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। প্রফেসর পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন যাদব মাঝি। রঘুসর্দারবাড় জালপাই ও শৌলার দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের কাছে ড. যাদব মাঝির লড়াই গর্ব ও অহংকারের। সালটা ছিল ২০০৮, নয়াপুট সুধীরকুমার হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৬.২৫ শতাংশ নাম্বার পেয়ে বিদ্যালয়ের সেরা হয় যাদব। মাধ্যমিকের সাফল্য পেলেও আর্থিক অভাব অনটনের কারনে স্কুলছুট হতে হয় যাদব কে। সদ্য বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বসন্তকুমার ঘোড়াই। বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি না হওয়ায় খোঁজ নেন। সহ-শিক্ষক সন্দীপ কুমার জানাকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে যাদবের বাড়ি পৌঁছান তিনি। যাদবের বাড়ি গিয়ে যাদবের বাবা লঙ্কেশ্বর বাবুর মুখে শুনলেন, যাদব মাছ ধরতে গিয়েছে আসতে দেরি হবে। দীর্...